পরীক্ষায় নকল ধরা পড়লে শিক্ষকদের জেল! শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি | BD News Points
পরীক্ষায় নকল ধরলে শিক্ষকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা | বিডি নিউজ পয়েন্টস
পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা নকলের ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নকল ধরা পড়লে শুধু শিক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরও কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরীক্ষার শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা:
মন্ত্রী জানান, পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায় শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। কোনোভাবেই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে চিরকুট বা বাহ্যিক কাগজপত্র রাখা যাবে না। বিশেষ করে ছাত্রীদের তল্লাশির জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান:
শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, "আন্তরিকভাবে শিক্ষাদান একটি পবিত্র দায়িত্ব এবং এটি সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হয়। এখানে কোনো ধরনের অসততা বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকেই প্রথম সফলভাবে নকলবিরোধী কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আবারও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ:
কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে নাঙ্গলকোটের একটি বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো শিক্ষক আহত হলে সরকার সহায়তা দেবে, কিন্তু শিক্ষায় অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
পরীক্ষার কেন্দ্রে নতুন প্রযুক্তি ও কোচিং সেন্টার:
পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা (CCTV) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন:
এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষার সময় সিসিটিভি সচল রাখা বাধ্যতামূলক।
বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে আইপিএসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যান্ত্রিক ত্রুটির কোনো অজুহাত চলবে না।
কোচিং সেন্টারগুলোকে পর্যায়ক্রমে সরকারি লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
সভায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ এবং জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
